আপনার স্মার্টফোনের নিরাপত্তায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস
![]() |
| আপনার স্মার্টফোনের নিরাপত্তায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস |
সাধারণত স্মার্ট ফোনেই আমরা আমদের সকল বাক্তিগত তথ্য ও প্রয়োজনীয় ফাইল সংরক্ষন করে থাকি। তবে আমরা অনেকেই জানিনা, আমাদের এই বাক্তিগত তথ্য ও প্রয়োজনীয় ফাইল কিভাবে নিরাপদে রাখতে পারি। ছোট কিছু ভুল কিংবা কিছু নিরাপত্তার অভাবে হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ফাইল গুলো।
বাংলা টেক এর পক্ষ থেকে আমি তন্ময় আপনাদের সবাইকে স্বাগতম জানাচ্ছি। আজ আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব স্মার্টফোনের নিরাপত্তা ভিত্তিক ১০টি বিষয় নিয়ে। যা কিনা আপনার স্মার্টফোনকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে সহায়তা করবে।
১. কোম্পানীর অনুমোদিত ডিলারদের থেকে মোবাইল ক্রয় করাঃ
আপনার স্মার্টফোনটি অবশ্যই কোন একটা ভালো কোম্পানির হতে হবে এবং এর অনুমোদিত ডিলার এর কাছ থেকেই নিবেন। বাজারে কম দামে হয়তো অনেক নিম্নমানের স্মার্ট ফোন পাওয়া যায় কিন্তু সেগুলো মোটেও নিরাপদ নয়। এ সকল নিম্নমানের স্মার্টফোন গুলোতে খুবই নিম্নমানের সিকিউরিটি ব্যবহার করা হয় এবং এই ফোন গুলোর মেমোরি ও খুবই দুর্বল প্রকৃতির হয়। যাতে করে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল কোন প্রকার সিকিউরিটি ইস্যু ছাড়াই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই অবশ্যই ভালো মানের স্মার্ট ফোন ব্যবহার করবেন এবং তা তাদের অনুমোদিত ডিলার থেকেই ক্রয় করবেন।
![]() |
| ফেস রিকগনিশন লক |
২. শক্তিশালী মোবাইল লক ব্যবহার করাঃ
আপনার স্মার্টফোনের লক অবশ্যই শক্তিশালী হতে হবে। আপনি প্যাটার্ন লক, পাসওয়ার্ড লক, ফিঙ্গারপ্রিন্ট অথবা ফেস রিকগনিশন লক ব্যবহার করতে পারেন। প্যাটার্ন ও পাসওয়ার্ড লক এর ক্ষেত্রে অবশ্যই যেন বড় এবং শক্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন প্রয়োজনে কিছুদিন পর পর সেগুলো পরিবর্তন করুন। তবে তুলনামূলকভাবে প্যাটার্ন ও পাসওয়ার্ড লক এর থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেস রিকগনিশন লক বেশি নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। আপনার স্মার্টফোনের যদি ফেস রিকগনিশন লক না থাকে সে ক্ষেত্রে প্যাটার্ন লক অথবা পাসওয়ার্ড লক এর সাথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক ব্যবহার করুন।
৩. অনুমোদিত অ্যাপ ষ্টোর ব্যতীত অ্যাপ ব্যাবহার না করাঃ
শুধুমাত্র অনুমোদিত অ্যাপস স্টোর ব্যতীত অন্য কোথাও থেকে অ্যাপস ইনস্টল করবেন না। সাধারনত তৃতীয় পক্ষের যে অ্যাপসগুলো ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় সেগুলোতে অ্যাপস ডেভলপারদের অনেক কন্ট্রোল থাকে, যাতে করে ডেভেলপার চাইলেই আপনার মোবাইলের অনেক কিছু সেই অ্যাপস দিয়ে কন্ট্রোল করতে পারে। শুধু তাই নয় ওই অ্যাপস দিয়ে অনায়াসেই আপনার ফোনের গোপন তথ্যগুলো ও হাতিয়ে নিতে পারে। তাই অবশ্যই মোবাইলের সিকিউরিটি কথা বিবেচনা করে অন্য কোন ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা অ্যাপস ইন্সটল করবেন না। শুধুমাত্র অনুমোদিত অ্যাপস স্টোর থেকে অ্যাপ ইনস্টল করবেন।
৪. ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যাবহার করাঃ
ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক সাধারণত এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আপনি ইন্টারনেটে একটি প্রাইভেট নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে আপনার কার্য সম্পাদন করতে পারেন। যেহেতু এটি একটি প্রাইভেট নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে আপনার কার্যক্রম সম্পাদন করাবে, তাই ইন্টারনেটে যাবতীয় সুরক্ষা সম্পাদন করবে এই ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কটি । তাই আপনার স্মার্টফোনে একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন।
৫. নিয়মিত ফোনের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করাঃ
আপনার স্মার্টফোনটি পাসওয়ার্ড নিয়মিত পরিবর্তন করুন। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে আপনার বিভিন্ন একাউন্টের পাসওয়ার্ড নির্দিষ্ট সময় পর পর পরিবর্তন করুন। এতে আপনার সব অ্যাকাউন্টগুলো সুরক্ষিত থাকবে এবং আপনার স্মার্ট ফোনের নিরাপত্তা প্রদান করবে। ভাল পাসওয়ার্ড এর ক্ষেত্রে অবশ্যই ৮ ডিজিট এর উপরে দিবেন যাতে করে আপনার পাসওয়ার্ডটি স্ট্রং হয় এবং লেটার এর আপার কেস, লোয়ার্কেস, নাম্বার ওর সিম্বল ব্যবহার করুন।
৬.ভালো মানের অ্যান্টিভাইরাস ব্যাবহার করাঃ
আপনার স্মার্টফোনে অবশ্যই একটি ভালো মানের এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন। এটি আপনার স্মার্টফোনের বিভিন্ন ম্যালওয়ার আক্রমণ থেকে আপনার ফোনকে রক্ষা করবে এবং উচ্চ মানের নিরাপত্তা প্রদান করবে। বলে রাখা ভালো বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ফ্রি প্রিমিয়াম এন্টিভাইরাস পাওয়া যায় যেগুলো কখনোই ব্যবহার করবেন না। প্রিমিয়াম এন্টিভাইরাস ব্যবহার করতে না পারলেও অ্যাপ স্টরে কিছু ভালো মানের ফ্রী এন্টিভাইরাস পাওয়া যায় যেগুলো এডিটর চয়েজ সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
৭. প্রয়োজন ছাড়া ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখাঃ
যথাযথ প্রয়োজন না হলে সব সময় চেষ্টা করবেন ইন্টারনেট কানেকশন বন্ধ রাখার এতে করে অপ্রত্যাশিত ম্যালওয়ার আক্রমণ করবে না। প্রয়োজন মতো আবার ইন্টারনেট ব্যবহার করুন। এটা আপনার স্মার্টফোনের ব্যাটারি ও যেমন সেভ হবে তেমনি আপনার স্মার্টফোনের নিরাপত্তা ও বাড়াবে।
৮. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করাঃ
আপনার স্মার্ট ফোনের অপ্রয়োজনীয় যে অ্যাপস গুলা আছে সেগুলো চেষ্টা করবেন আনইন্সটল করে দেওয়ার। এতে করে আপনার স্মার্টফোনের মেমোরি ব্যবহার কম হবে এবং স্মার্টফোনের গতি বাড়বে। প্রয়োজন অনুযায়ী আবার ইন্সটল করবেন। অতিরিক্ত অ্যাপস ব্যবহার এর কারণে স্মার্টফোনের মেমোরি বেশি ব্যবহৃত হয় এবং এর গতি কিছুটা কমে যায়। তাই আজ সব সময় চেষ্টা করবেন অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস গুলো আনইন্সটল করে দেওয়ার।
৯. সবসময় অপারেটিং সিস্টেমের হালনাগাদ ভার্শন ব্যাবহার করাঃ
আপনার স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেমের হালনাগাদ ভার্সন টি ব্যবহার করুন। অপারেটিং সিস্টেমের সিকিউরিটি আপডেট গুলো নিয়মিত করে নিন এতে করে আপনার স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম সুরক্ষিত থাকবে। আপনার স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেমের পাশাপাশি অ্যাপস গুলোর হালনাগাদ ভার্সন ব্যবহার করুন। এতে করে কোম্পানি কর্তৃক প্রদত্ত অ্যাপস গুলোর সকল ফিচার গুলো পেয়ে যাবেন।
১০. ফোন রুট/কাস্টম রম ব্যাবহার না করাঃ
আমরা অনেকেই কিছু অতিরিক্ত সুবিধা পেতে ফোনে রুট অথবা কাস্টম রম ইনস্টল করে থাকি যেটা কখনই উচিত নয়। আপনি যদি কোন ফোনে রুট করেন তবে স্মার্টফোন কোম্পানি আপনার ফোনের ওয়ারেন্টি বাতিল করে দেবে। তাই বুঝতেই পারছেন এটা কোম্পানি কর্তৃক সরাসরি কতটা রেস্ট্রাইক্টেদ করে দেওয়া আছে। আপনি যদি দক্ষ না হন তবে এমন কেউ হতে পারে তবে এমনটা ও হতে পারে রুট করতে গিয়ে আপনার ফোন পুরো পুরি নষ্ট হয়ে গেছে। আপনার ফোন রুট করার সঙ্গে সঙ্গে একটি তৃতীয় পক্ষ আপনার ফোনের সকল কন্ট্রোল নিয়ে নেবে। যদি ভালো ডেভেলপারের না হয় তবে ডেভেলপার ইচ্ছা করলে আপনার ফোনের তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। এসকল ক্ষেত্রে সকল দায়ভার আপনার নিজেরই নিতে হবে স্মার্টফোন কোম্পানি কোন প্রকার দায় ভার নেবে না। তাই আপনার স্মার্টফোনে কখনো রুট করবেন না এটা করলে আপনার স্মার্টফোনের কোম্পানি কর্তৃক প্রদত্ত আর কোন সিকিউরিটি থাকবে না।
উপরোক্ত আলোচনায় আমি চেষ্টা করেছি আপনার স্মার্টফোনকে কিভাবে নিরাপত্তা প্রদান করবেন সে বিষয়ে আলোচনা করার। আশা করি উপরোক্ত নিয়ম গুলো সঠিক ভাবে মেনে চললে আপনার স্মার্ট ফোনের সিকিউরিটি জনিত কোন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হবেন না। আর আপনার যদি কোন প্রশ্ন বা আর কিছু জানার থাকে তবে নিচে কমেন্ট সেকশনে কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমি চেষ্টা করব সেগুলো সমাধান করার। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন যাতে আপনার পরিচিত সবাই এ ব্যাপারে জানতে পারে।




No comments