12 Blogging Tips for Beginners ব্লগিং শুরু করার ১২ টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল
12 Blogging Tips for Beginners ব্লগিং শুরু করার ১২ টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল
বাংলা টেক - এর পক্ষ হতে আমি 'তন্ময়' সবাইকে স্বাগতম জানাচ্ছি। ব্লগিং শুরু করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস যা (এস ই ও) এর জন্য খুব ই প্রয়োজনীয়। সেগুলো নিয়ে আজকে আমি আলোচনা করবো।
আমরা অনেকই ব্লগিং শুরু করার সময় সাধারণত কিছু বিষয় যোগ করতে ভুলে যাই যেগুলো খুবই প্রয়োজনীয় ভুমিকা পালন করে থাকে। যার কারণে আমরা বেশ বড় ধরনের ট্রাফিক হারাই। ছোট কিছু কৌশল যা কিনা ওয়েবসাইট ট্র্যাফিকের এর ভাল ফলাফল অনেক দ্রুতই পরিবর্তন করতে সহায়তা করবে।
আমি ছোট ছোট কিছু কৌশল অবলম্ববন করে আল্পো কিছুদিনেই অনেক ভাল ফলাফল পেয়েছি। যা কিনা এক মাসের মধ্যে ওয়েবসাইট ট্র্যাফিকের 400% বৃদ্ধি হয়েছে।
তো চলুন দেখে নেই কিভাবে আপনি ব্লগিং শুরু করবেন। যারা নতুন অথবা শুরু করতে যাচ্ছেন, আশাকরি নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলে ব্লগিং এ ভাল ফলাফল পাবেন।
১। কাজের ধরণ অনুযায়ী আপনার লক্ষ্য নির্ধারণ করুনঃ
প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে সেটা হল, আপনার কাজের ধরণ অনুযায়ী আপনার লক্ষ্য নিরধারণ করা। সেটা কিভাবে?ধরুন, আপনি নতুন কোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান শুরু করেছেন এবং সেটার উপরেই ব্লগিং করতে চান। অথবা আপনি আপনার নতুন কোন আইডিয়া সম্পর্কে সবাইকে জানাতে চান। অথবা আপনি কোন কিছুর বিবরণ দিতে চান। আথবা একেক জনের কাজের ধরণ আলাদা আলাদা কোন কিছু হতেই পারে। তবে যেটাই হোক না কেন, সেটার উপরেই আপনার লক্ষ্য নির্ধারণ করাটাই মুল কথা।
প্রায় 70% মানুষ আপনার ব্লগিং পড়েই আপনার ব্যবসায় বা কাজের ধরণ সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকেন। তাই বলা যায় যে এটা নির্ধারণ করাটা জরুরি।
সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেই আপনার ওয়েবসাইট এর নাম নির্ধারণ করতে হবে।
২। ওয়েবসাইট এ ভাল মানের থিম নির্বাচন করুনঃ
ব্লগিং এর জন্য ভাল মানের থিম নির্বাচন করাটা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি অনেক কষ্ট করে পোস্ট করবেন আর সেটা যদি সঠিক ভাবে অপ্টিমাইজেশান না হয় তবে সেটা দুঃখজনক।
অনেকেই নিম্ন মানের থিম ব্যবহার করে থাকেন আথবা প্রিমিয়াম থিম এর ক্র্যাক ভার্সন ব্যাবহার করে থাকেন। যেখানে বিভিন্ন ধরনের স্ক্রিপ্ট দেয়া থাকে।
আর যে সব থিম এ ধরনের স্ক্রিপ্ট দেয়া থাকে সেগুলো এস ই ও তে বিভিন্ন রকমের বাধা সৃষ্টি করে থাকে এবং সঠিক ভাবে অপ্টিমাইজেশান হয় না।
তাই ভাল মানের থিম নির্বাচন করুন। যদি সম্ভব হয় তবে কোন কম্পানির (থিম ফরেস্ট) থেকে প্রিমিয়াম থিম গ্রহন করুন। অথবা ফ্রী তে অনেক ভাল মানের থিম পাওয়া যায় সেগুল ব্যাবহার করুন।
৩। ব্লগ এ প্রয়োজনীয় কিছু পেজ তৈরি করুনঃ
ব্লগ এ অবশ্যই কিছু প্রয়োজনীয় পেজ থাকা জরুরি। যেমন, ব্লগ সম্পর্কিত পেজ (About Us), শর্তাবলী এবং শর্ত প্রযোজ্য সম্বলিত পেজ (Terms and Conditions), যোগাযোগ এর জন্য (Contact Us) পেজ এছারা ও ডিজিটাল মিলেনিয়াম কপিরাইট অ্যাক্ট এর জন্য (DMCA) পেজ ইত্যাদি।একজন ভিজিটর এর জন্য এই ধরনের পেজ গুলো গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি। তাই আপনার ব্লগ এ এই ধরনের পেজ গুলো থাকা আবশ্যক।
আপনি যদি নিজে নিজে এগুলো না তৈরি করতে পারেন তবে গুগল এ সার্চ করে কিছু ওয়েবসাইট খুঁজে পাবেন যেখানে আপনি এই পেজ গুলো তৈরি করে নিতে পারবেন।
৪। ওয়েবসাইট এর জন্য Long Tail Keyword নির্বাচন করুনঃ
আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য অবশ্যই Long tail Keyword নির্বাচন করুন। আপনি চাইলে (Keyword Tool) এখান থেকে Long tail Keyword নির্বাচন করতে পারেন।তবে মনে রাখবেন আপনি অবশ্যই কম প্রতিযোগিতামূলক Keyword গুলো বেছে নিবেন।
৫। অনন্য ইমেজ এবং গ্রাফিক্স এর ব্যবহারঃ
ব্লগ পোস্ট এর সময় অবশ্যই ভাল মানের এবং অনন্য ইমেজ ব্যবহার করুন। আপনার অধিকার আছে যে ইমেজ এবং গ্রাফিক্স এ সেই ধরনের ইমেজ এবং গ্রাফিক্স ব্যবহার করবেন।কপিরাইট ইমেজ এবং গ্রাফিক্স ব্যাবহার থেকে বিরত থাকুন।
নিজের তৈরি ইমেজ এবং গ্রাফিক্স শুধুমাত্র পোস্ট এ ব্যবহার করুন। কপিরাইট বিহীন ইমেজ এবং গ্রাফিক্স পুনরায় তৈরি করে সেটা ব্যবহার করতে পারেন।
প্রয়োজন মত ইমেজ এবং গ্রাফিক্স ব্যবহার একটি ব্লগ পোস্ট এর অনেক বড় সমর্থন দিয়ে থাকে।
ইমেজ ব্যাবহার এর ক্ষেত্রে অবশ্যই ইমেজে "Alt Attributes" ব্যাবহার এর মাধ্যমে ইমেজ এবং গ্রাফিক্স এর সঠিক কর্যক্রম পরিচালিত হবে।
আপনি নিচের ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যে স্টক ইমেজ ব্যবহার করতে পারেনঃ
৬। ব্লগ পোস্ট অবশ্যই ১৫০০ শব্দ বা তার বেশি তে লিখুনঃ
আপনার ব্লগ পোস্ট টি যেন অবশ্যই ১৫০০ শব্দ বা তার বেশি হয় সেই দিকে খেয়াল রাখুন। সাধারণত ১৫০০ থেকে ৩০০০ শব্দ এর পোস্ট এস ই ও এর জন্য খুব ই ভাল।তবে ১৫০০ শব্দ এর কমে যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। যদি কম এ হয় তবে সেটা এস ই ও তে ভাল ভাবে প্রভাবিত হবে না।
প্রয়জনে আপনার বিষয়ের বিস্তারিত লিখুন।
এই নিবন্ধটি প্রায় ৪০০০ শব্দ রয়েছে, কারণ আমার লক্ষ্য ছিল নতুনদের জন্য ব্লগিং টিপস এবং কৌশলগুলি যথাযথ ভাবে উপস্থাপন করা।
৭। আপনার পুরানো কন্টেন্ট এর লিঙ্ক যোগ করুনঃ
যথাযথ কারনবশত আপনি আপনার পুরানো কন্টেন্ট এর লিঙ্ক আপনার ব্লগ পোস্ট এ যোগ করুন।
সবকিছু একটি চক্র। কিছু সময় এমন টা হয় যে, আপনি কিছুদিন আগে একটি পোস্ট করেছেন এবং নতুন পোস্ট করার সময় প্রাসঙ্গিক বিষয়টি পুনরুজ্জীবিত হবে এবং আরো একবার নতুন, উন্নত হয়ে উঠবে।
এতে আপনার ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত হবে, এবং আপনি আরও বেশি ট্র্যাফিক পাবেন। তবে পুরানো বিষয় এর সাথে সংযোগ করে দেওয়ার আগে নিশ্চিত হন যেঃ
- আপনার পাঠকদের কাছে পুরনো বিষয়টি সত্যিকার অর্থে সহায়ক।
- সমর্থন করার জন্য প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন লিঙ্ক বা সংস্থান যোগ করুন।
এ কাজের ফলে আপনার পুরানো কন্টেন্ট এর সাথে একটি নতুন সংযোগ করে দেওয়ার একটি চমৎকার সুযোগ হয়ে উঠবে।
৮। প্রচারের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সুবিধা নিনঃ
বাস্তবিকই বর্তমানে অনলাইন ব্যাবহারকারী রা তাদের সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এ সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে সক্রিয় থাকা ব্যাবহারকারী দের সাথে আপনার বিষয়ের সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি দুর্দান্ত সুযোগ সামাজিক মিডিয়া এর সঠিক ব্যাবহার।
আপনার পোস্টগুলি প্রচার করার এবং আপনার অনুসারীদের আকর্ষন করার জন্য সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির সঠিক ব্যাবহার এর সুবিধা নিন।
৯। নির্দেশিকা সঙ্গে ব্লগ পোস্ট লিখুনঃ
আপনার ব্লগ সম্পর্কিত লোকেরা জানতে চায় এমন বিষয়ের উপর বেশি পোস্ট করুন এবং এর সর্বোত্তম অনুশীলন হিসাবে ব্যবহার করুন।আপনার ব্লগ পোস্টের শিরোনামগুলিতে বিভিন্ন ধরনের টিপস ব্যাবহার করুন, যেটি একজন পাঠকের প্রাপ্ত তথ্যের সম্পর্কে একটি প্রত্যাশা প্রদান করে থাকে।
১০। পঠনযোগ্যতা বৃদ্ধিতে ব্লগ কন্টেন্ট বিরতির ব্যাবহারঃ
একটি ছোট পর্দায় বড়পাঠ্য পড়া কঠিন হয়ে যায়। এবং, অনেক ব্লগার পাঠক তাদের স্মার্টফোনে সময় নেন।
প্রতিটি অনুচ্ছেদ ২-৩ অনুচ্ছেদের সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করুন।
সংক্ষেপে বাক্যগুলি ব্যবহার করুন এবং ২০ টিরও কম শব্দ ব্যবহার করুন।
প্রায়শই, আপনি নিজের দ্বারা একটি ধারণা নিতে পারেন, যদি আপনি নিজেই একটি বড় বাক্য পড়তে স্বাছন্দ বোধ না করেন তবে একজন পাঠক কিভাবে স্বাছন্দ বোধ করবে।
১১। আপনার ব্লগের লোডিং সময় উন্নত করুনঃ
এতে কোন সন্দেহ নেই: যদি আপনি এই নিবন্ধটি লোড করার জন্য কয়েক মিনিটের জন্য অপেক্ষা করেন তবে আপনি এই শেষ টিপটি পড়তে পারবেন না।
ব্লগ এর লোডিং সময় প্রয়োজন। এটি সাধারণ যে, একটি ওয়েবসাইট এ বিভন্ন কোডিং ব্যাবহার এর সাইটটির লোডিং সময় বেশি প্রয়োজন হয়। এটি ধীর হলে, আপনি আপনার সম্ভাব্য পাঠকগন হারাবেন। লোডিং সময় কম হলে বেশি পাঠক পাবেন, কিন্তু আরো গুরুত্বপূর্ণ হল, এটি আপনার বিদ্যমান দর্শকদের ভবিষ্যতে আপনার ব্লগে ফিরে যেতে যথেষ্ট খুশি রাখতে পারে।
১২। আপনার ব্লগ পোস্টে সামাজিক শেয়ারিং বাটোন যোগ করুনঃ
সামাজিক মিডিয়া ব্যাবহারকারী পাঠকগন আপনার বিষয়বস্তু যদি পছন্দ করে থাকেন তবে তা অন্যদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।
শেয়ার করার জন্য একাধিক সুযোগ থাকলেও পোস্টের উপরে এবং নীচে আপনার স্বীকৃত সামাজিক নেটওয়ার্ক শেয়ারিং বাটোন রাখুন।
আপনি ডেস্কটপ ব্যবহারকারীদের এটি পড়ার জন্য উপরে বামদিকে ভাসমান ভাবে দেখতে পাবেন।
সমাপ্তিঃ
আপনি আপনার ব্লগ এর কাঙ্ক্ষিত ফলাফল রাতারাতি পাবেন না। আমি আপনাকে কেবলমাত্র এক মাসের মধ্যেই আমাদের ব্লগ পোস্টের প্রভাবটি প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছিলাম। আপনি উপরের নিয়ম গুলি সঠিক ভাবে পরিচালনা করলে এক মাসের মধ্যেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে পারেন।
সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি লক্ষ্য সেট করুন, এবং আপনার সাপ্তাহিক কর্মপ্রবাহ মধ্যে ব্লগিং সংহীত করুন।
শুধু সময় খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন না, উদ্দেশ্যমূলকভাবে সময় তৈরি করুন।
তথ্যপূর্ণ সামগ্রী উৎপাদন এবং প্রচার করার প্রক্রিয়াগুলির জন্য নির্দেশিকা হিসাবে নতুনদের জন্য এই ব্লগিং টিপ্স এবং কৌশলগুলি ব্যবহার করুন। চলমান প্রচেষ্টা আপনার ছোট ব্লগিং এর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্ভবনাময়, এটা প্রমাণিত!





No comments